
ক্রিয়েটর হিসেবে শুরু করা মানে নতুন একগাদা শব্দ শেখা। টিউটোরিয়াল আর সেটিং স্ক্রিন ভরা থাকে বিটরেট, অ্যাসপেক্ট রেশিও, কি-ফ্রেমের মতো ভিডিও এডিটিংয়ের শব্দে, আর সহজেই দিশেহারা লাগে। এই শব্দকোষে ৪০টি প্রচলিত শব্দ সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছি, ভাগ করে সাজানো যাতে দ্রুত খুঁজে পান।
বুকমার্ক করে রাখুন, আর কোনো সেটিং বা গাইডে অচেনা শব্দ পেলে ফিরে আসুন।
রেকর্ডিংয়ের মূল শব্দ
- ১. স্ক্রিন রেকর্ডিং: স্ক্রিনে যা দেখা যায় সব ভিডিও হিসেবে ধরে রাখা, প্রায়ই শব্দসহ।
- ২. রেজোলিউশন: প্রতিটি ফ্রেমে কত পিক্সেল, যেমন 1280×720 (720p) বা 1920×1080 (1080p)। বেশি পিক্সেল মানে বেশি পরিষ্কার ডিটেইল আর বড় ফাইল।
- ৩. ফ্রেম রেট (fps): প্রতি সেকেন্ডে কতগুলো স্থির ছবি দেখানো হয়। 30fps সাধারণ; গেম ও দ্রুত স্ক্রলে 60fps বেশি মসৃণ দেখায়।
- ৪. বিটরেট: ভিডিও প্রতি সেকেন্ডে কতটা ডেটা ব্যবহার করে। বেশি বিটরেটে বিশেষ করে মুভমেন্টে বেশি ডিটেইল থাকে।
- ৫. এনকোডার: ফোনের যে অংশ রেকর্ডের সময় ভিডিও কমপ্রেস করে। এনকোডার ব্যস্ত থাকলে কোয়ালিটি বা ফ্রেম বাদ পড়তে পারে।
- ৬. কাউন্টডাউন: রেকর্ড শুরুর আগের ছোট টাইমার, যা প্রস্তুত হওয়ার একটু সময় দেয়।
- ৭. ফ্লোটিং কন্ট্রোল: অন্য অ্যাপের ওপর ভেসে থাকা ছোট বাটন, যা দিয়ে যেকোনো জায়গা থেকে পজ, রিজিউম বা স্টপ করা যায়।
- ৮. টেক: রেকর্ডের একটি চেষ্টা। "টেক টু" মানে দ্বিতীয় চেষ্টা।
- ৯. স্ক্রিন ক্যাপচার পারমিশন: প্রতিটি রেকর্ডিং সেশন অনুমোদনের জন্য অ্যান্ড্রয়েডের অনুরোধ।
- ১০. FLAG_SECURE: অ্যাপ যে সেটিং দিয়ে স্ক্রিনশট ও রেকর্ডিং বন্ধ রাখে, ফলে সুরক্ষিত স্ক্রিন কালো দেখায়। দেখুন অ্যাপ কেন কালো স্ক্রিন দেখায়।
অডিওর শব্দ
- ১১. ইন্টারনাল অডিও (সিস্টেম অডিও): ফোনের ভেতর থেকে আসা শব্দ, যেমন অ্যাপের শব্দ বা কোনো ভিডিও। অ্যান্ড্রয়েডে Android 10 বা নতুন লাগে, আর কিছু অ্যাপ এটি বন্ধ রাখে।
- ১২. মাইক অডিও: মাইক্রোফোনে আসা আপনার কণ্ঠ।
- ১৩. মাইক লেভেল মিটার: মাইক্রোফোনের শব্দ কতটা জোরে আসছে তা দেখানো লাইভ বার, যাতে বুঝতে পারেন মাইক কাজ করছে।
- ১৪. ধারাবর্ণনা / ভয়েস-ওভার: কী হচ্ছে তা বোঝাতে ভিডিওর ওপর কথা বলা। ভয়েস-ওভার প্রায়ই আলাদা করে রেকর্ড করা হয়।
- ১৫. অডিও সিঙ্ক: শব্দ আর ছবি ঠিকঠাক মেলা। না মিললে বলা হয় অডিও "আউট অব সিঙ্ক"। দেখুন অডিও আর ভিডিও না মিললে কী করবেন।
- ১৬. ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ: ফ্যান, রাস্তার গাড়ি বা প্রতিধ্বনির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ।
- ১৭. রয়্যালটি-ফ্রি মিউজিক: লাইসেন্সের আওতায় প্রতিবার টাকা না দিয়েই যে গান ব্যবহার করা যায়। সবসময় লাইসেন্সের শর্ত পড়ুন।
এডিটিংয়ের শব্দ
- ১৮. টাইমলাইন: এডিটরের আড়াআড়ি ভিউ, যেখানে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভিডিও দেখা যায় আর কাটা ও সাজানোর কাজ হয়।
- ১৯. ট্রিম: ক্লিপের শুরু বা শেষ থেকে অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেওয়া।
- ২০. কাট / স্প্লিট: ক্লিপকে ভাগ করা, যাতে কোনো অংশ সরানো বা বাদ দেওয়া যায়।
- ২১. জাম্প কাট: একই শটের ভেতর সময় এগিয়ে যাওয়া কাট, প্রায়ই বিরতি বাদ দিতে ব্যবহৃত।
- ২২. নন-ডেস্ট্রাকটিভ এডিটিং: যে এডিট কখনো মূল ফাইল বদলায় না, তাই যেকোনো সময় বাতিল বা ঠিক করা যায়। পড়ুন নন-ডেস্ট্রাকটিভ এডিটিংয়ের ব্যাখ্যা।
- ২৩. অটো জুম: যেখানে ট্যাপ বা ক্লিক করেন সেদিকে নিজে থেকে জুম হয়ে আবার পিছিয়ে আসা, যাতে দর্শক ডিটেইল দেখেন।
- ২৪. ইজিং: জুমের মতো কোনো মুভমেন্টের আস্তে শুরু ও আস্তে থামা, যাতে যান্ত্রিক না লেগে মসৃণ লাগে।
- ২৫. কি-ফ্রেম: চিহ্নিত একটি বিন্দু যেখানে কোনো সেটিংয়ের (যেমন জুম বা অবস্থান) নির্দিষ্ট মান থাকে; এডিটর দুই কি-ফ্রেমের মাঝে অ্যানিমেশন তৈরি করে।
- ২৬. কার্সর স্মুদিং: পয়েন্টারের চলার পথ কাঁপা না দেখিয়ে মসৃণ দেখানো।
- ২৭. স্পটলাইট / ফোকাস হাইলাইট: বাকি স্ক্রিন একটু অন্ধকার করে বা একটি অংশ উজ্জ্বল করে মনোযোগ টানা।
- ২৮. ক্লিক অ্যানিমেশন: ট্যাপ কোথায় হলো তা দেখাতে ছোট একটা ঢেউ বা বৃত্ত।
- ২৯. ক্যামেরা বাবল / ফেসক্যাম: স্ক্রিন রেকর্ডিংয়ের এক কোণে আপনার মুখের ছোট ভিডিও।
- ৩০. ট্রানজিশন: এক ক্লিপ থেকে পরের ক্লিপে যাওয়ার ধরন, যেমন কাট বা ফেড।
- ৩১. বি-রোল: ধারাবর্ণনার ওপর কোনো কথা বোঝাতে দেখানো বাড়তি ফুটেজ।
- ৩২. টেমপ্লেট: নির্দিষ্ট ধরনের ভিডিওর জন্য আগে থেকে তৈরি শুরুর সেটআপ, যেমন টিউটোরিয়াল বা প্রোডাক্ট ডেমো।
এক্সপোর্ট ও ফরম্যাটের শব্দ
- ৩৩. এক্সপোর্ট / রেন্ডার: এডিট করা প্রজেক্টকে চূড়ান্ত ভিডিও ফাইলে পরিণত করা।
- ৩৪. অ্যাসপেক্ট রেশিও: ভিডিওর আকার: 16:9 চওড়া, 9:16 লম্বা, 4:5 ফিডের জন্য সামান্য লম্বা। দেখুন Reels ও Shorts সাইজ গাইড।
- ৩৫. রিফ্রেম: গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফ্রেমে রেখে অ্যাসপেক্ট রেশিও বদলানো।
- ৩৬. কোডেক: ভিডিও কমপ্রেস করার পদ্ধতি, যেমন H.264। বেশিরভাগ ফোন প্রচলিত কোডেক নিজে থেকেই সামলায়।
- ৩৭. MP4: শেয়ার ও আপলোডের জন্য সবচেয়ে বেশি সাপোর্টেড ভিডিও ফাইল ফরম্যাট।
- ৩৮. কমপ্রেশন: কিছু ডিটেইল বাদ দিয়ে ফাইলের আকার কমানো। বেশি হলে ভিডিও ঝাপসা বা চৌকো চৌকো হয়ে যায়।
ক্রিয়েটর ও AI-এর শব্দ
- ৩৯. হুক: ভিডিওর প্রথম কয়েক সেকেন্ড, যা দর্শককে দেখতে থাকতে আগ্রহী করে। দেখুন হুক কীভাবে লিখবেন।
- ৪০. API কী: একটি গোপন কোড, যা দিয়ে কোনো অ্যাপ আপনার অ্যাকাউন্টে AI সার্ভিস ব্যবহার করে। Cinematic Recorder-এ নিজের কী ব্যবহার করতে পারেন, যা Android Keystore-এ থাকে এবং কখনো আমাদের সার্ভারে যায় না।
Cinematic Recorder-এ এই শব্দগুলো কোথায় পাবেন
এর অনেক শব্দই অ্যাপের ফিচারের সাথে সরাসরি মেলে: রেকর্ডের সময় রেজোলিউশন ও ফ্রেম রেট (ফ্রিতে ৩০fps-এ ৭২০p পর্যন্ত, প্রিমিয়ামে 60fps পর্যন্ত); রেকর্ড চলাকালে ইন্টারনাল অডিও, মাইক লেভেল মিটার, কাউন্টডাউন ও ফ্লোটিং কন্ট্রোল; এডিটরে ইজিংসহ অটো জুম, কার্সর স্মুদিং, স্পটলাইট, ক্লিক অ্যানিমেশন ও ফোকাস হাইলাইট; আর এক্সপোর্টে 16:9, 9:16 ও 4:5 রিফ্রেমিং। সব এডিট নন-ডেস্ট্রাকটিভ। দেখে নিন ফিচার পেজে।
সাধারণ প্রশ্ন
রেজোলিউশন আর বিটরেটের পার্থক্য কী?
রেজোলিউশন হলো প্রতিটি ফ্রেমে কত পিক্সেল। বিটরেট হলো সেই পিক্সেলগুলো বর্ণনা করতে প্রতি সেকেন্ডে কতটা ডেটা লাগে। পরিষ্কার ভিডিওর জন্য দুটোই দরকার।
60fps কি সবসময় 30fps-এর চেয়ে ভালো?
সবসময় না। মুভমেন্টে 60fps বেশি মসৃণ, কিন্তু ফাইল বড় হয় আর ফোনের ওপর চাপ বাড়ে। শান্ত টিউটোরিয়ালে 30fps প্রায়ই যথেষ্ট।
নন-ডেস্ট্রাকটিভ মানে কী?
আপনার মূল রেকর্ডিং কখনো বদলায় না। এডিটগুলো আলাদা করে রাখা হয়, তাই যেকোনো সময় বাতিল বা ঠিক করা যায়।
কোন অ্যাসপেক্ট রেশিও ব্যবহার করব?
YouTube-এর জন্য 16:9, Reels, Shorts ও TikTok-এর জন্য 9:16, আর Facebook ও Instagram ফিড পোস্টের জন্য 4:5।
এই ৪০টি শব্দ জানা থাকলে সেটিং স্ক্রিন আর এডিটিং গাইড অনেক বেশি বোধগম্য হবে। এবার কিছু বানিয়ে ফেলুন।